
বিডার তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরে যত দেশীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব করা হয়েছে, তার ৪৩ শতাংশই করা হয়েছে সেবা খাতে। অন্যদিকে সেবা খাতে বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাবের হার ছিল এ খাতে করা প্রস্তাবের অর্ধেকের বেশি বা ৫১ শতাংশ।
জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুসারে, অটোমোবাইল, এভিয়েশন, পরিবহন, যোগাযোগ, ওয়্যারহাউস, সুপারশপ, বিপণিবিতান, রেস্তোরাঁ, লজিস্টিক, বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ইত্যাদিকে সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়।
বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) সেবা খাতের অবদান এখন ৫১ শতাংশের বেশি। ফলে দেখা যাচ্ছে, শিল্প উৎপাদন খাতের তুলনায় সেবা খাত ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
বিডার তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা সেবা খাতের পর রাসায়নিক (২০ শতাংশ), বস্ত্র (১৫ শতাংশ), ইঞ্জিনিয়ারিং (১০ শতাংশ) ও কৃষি (৪ শতাংশ) খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে ২০২১–২২ অর্থবছরে সেবা খাতের পর বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ ছিল রাসায়নিকে (১৪ শতাংশ), ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (১৪ শতাংশ), বস্ত্র (৮ শতাংশ) ও কৃষি খাতে (৪ শতাংশ)। এ ছাড়া খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, প্রিন্টিং, ট্যানারি ও চামড়া, গ্লাস ও সিরামিক ইত্যাদি খাতেও বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে গত অর্থবছরে।
এর আগের তিন অর্থবছরেও বিডাতে সেবা খাতে বিনিয়োগ প্রস্তাব তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। যেমন ২০২০–২১ অর্থবছরে বিডায় নিবন্ধিত স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাবের মধ্যে সেবা খাতে বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল ১২ শতাংশ এবং বিদেশি ও যৌথ প্রকল্প প্রস্তাব ৭৩ শতাংশ। ২০১৯–২০ অর্থবছরে ৪৭ শতাংশ ও ২০১৮–১৯ অর্থবছরে ১৪ শতাংশ স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব করা হয় সেবা খাতের জন্য। তবে এই দুই অর্থবছরে সেবা খাতে বিদেশি ও যৌথ বিনিয়োগ প্রস্তাব ৪ শতাংশের কম ছিল।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, বিডার মাধ্যমে সেবা খাতে বিনিয়োগ প্রস্তাব ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সেবা খাতে বিনিয়োগ প্রস্তাব যেমন বাড়ছে, প্রকৃত বিনিয়োগও বাড়ছে বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।
ফলে এখন মোট দেশজ উৎপাদনেও (জিডিপি) সেবা খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, ২০২০–২১ অর্থবছরে জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান ছিল ৫১ শতাংশের বেশি। এর আগের ছয় অর্থবছরেও জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান ৫০ শতাংশের বেশি হিসাব করা হয়েছে।
